
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তার বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ না থাকলেও “নৈতিক দায়” নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি নাহিদ ইসলামের সাম্প্রতিক সংসদীয় বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।
রাশেদ খাঁন লিখেছেন, নাহিদ ইসলাম সংসদে দাঁড়িয়ে দুর্নীতির প্রমাণ চেয়েছেন। তবে তিনি ধরে নিচ্ছেন, নাহিদ ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। এরপরও তিনি দাবি করেন, নাহিদের দায়িত্বকালীন সময়ে সরকারের ভেতরে এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলে একাধিক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
তার পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, নাহিদ ইসলামের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিও) আতিক মোর্শেদের কর্মকাণ্ড নিয়েও গণমাধ্যমে নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ ও রদবদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তিনি তোলেন।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, নাহিদ ইসলাম নিজেও এক সময় বলেছেন যে কয়েকজন উপদেষ্টাকে বিশ্বাস করে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। সেই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে, এসব ঘটনার দায় তিনি এড়াতে পারেন কি না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নাহিদ ইসলাম নিজেই বলেছিলেন বিভিন্ন ধনী ব্যক্তি এনসিপিকে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন। এই অর্থায়নের উৎস নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, এসব আর্থিক সহায়তা কোনো বিনিময় ছাড়া হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
পোস্টে শেখ বশির উদ্দিনকে বাণিজ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। রাশেদ খাঁনের মতে, তার মতে ওই নিয়োগের পেছনের কারণ ও প্রভাব নিয়েও জনমনে সন্দেহ রয়েছে।
আরও একটি বড় অভিযোগ হিসেবে তিনি বলেন, নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন সময়েই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, যা তার মতে “নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ”।
এছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্কার, ১৬ বছরের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ এবং পরবর্তী সময়ে টেলিভিশন লাইসেন্স ইস্যু—এসব বিষয়েও তিনি নাহিদ ইসলামের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, নাহিদ ইসলাম বিচার, সংস্কার এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে যুক্ত হলেও পরে পদত্যাগ করেন, কিন্তু প্রতিশ্রুত কাজগুলো সম্পন্ন হয়নি।
সব মিলিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, নাহিদ ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতিতে জড়িত না হলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তার বিরুদ্ধে “নৈতিক অপরাধের দায়” তৈরি হয়েছে।
এদিকে নাহিদ ইসলাম বা এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য মূলত চলমান রাজনৈতিক উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আগামী রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।