
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাকে বাঁচাতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন সাহানারা বেগম (৩৮) নামে এক নারী। ঈদের আগের দিন ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বুধবার (২৭ মে) সকালে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাহানারা বেগম ওই গ্রামের জাকের আলী মোল্লার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল থেকেই আকাশে ছিল ঘন কালো মেঘ। যেকোনো সময় ভারী বৃষ্টি নামতে পারে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এ সময় সাহানারার মা আছিয়া খাতুন বাড়ির পাশের একটি ঘেরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন।
মেঘের গর্জন ও বিদ্যুতের ঝলকানি দেখে মায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন সাহানারা। নিজের কথা না ভেবে দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে তিনি মায়ের কাছে ছুটে যান। পরে মাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তারা। ঠিক সেই মুহূর্তেই বিকট শব্দে বজ্রপাত আঘাত হানে। ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাহানারা বেগম।
মৃতের চাচাতো ভাই শাহ-আলম মোল্লা জানান, প্রতিদিনের মতোই সকালে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন আছিয়া খাতুন। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ দেখে সাহানারা মাকে আনতে যান। মাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনলেও নিজে আর বাঁচতে পারলেন না।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাছুদুল আলম বলেন, “ঈদের ঠিক আগের দিন এমন একটি মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো ইউনিয়নের মানুষকে কাঁদিয়েছে। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে বজ্রপাত নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাশয় বা ঘেরে অবস্থান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মেঘের গর্জন শুরু হলেই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সাহানারার এই আত্মত্যাগের ঘটনা স্থানীয়দের আবেগাপ্লুত করেছে। অনেকেই বলছেন, একজন মেয়ের কাছে মায়ের নিরাপত্তাই ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই নিজের জীবন উৎসর্গ করলেন তিনি।