
মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।
বুধবার (২৭ মে) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক উন্মুক্ত বিতর্ক অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ওয়াং ই বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উচিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা এবং পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই ছাড় দিয়ে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক সমাধানের বিকল্প নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে সব পক্ষকে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে হবে।
এদিকে ইরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। তেহরান দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা নৌযানের ওপর হামলা চালিয়েছে। ইরান এ ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে পাল্টা প্রতিক্রিয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
চীন বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ওয়াং ই জানিয়েছেন, সংঘাত নিরসনে চীন সংশ্লিষ্ট প্রধান পক্ষগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখেছে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই প্রতিফলন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় বেইজিং এখন আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নতুন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।