
দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ। আগের দিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২১ মিনিটে।
শীতের প্রভাব পড়েছে জনস্বাস্থ্যেও। ঠান্ডাজনিত জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই অনেক মানুষ হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে ভিড় করছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে শীতের কষ্ট বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঘন কুয়াশার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গত ২৫ ডিসেম্বর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে কুয়াশা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ দিন ও রাতের তাপমাত্রা সারা দেশে প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা জানান, সাম্প্রতিক দিনে দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং এই দুইয়ের ব্যবধানও কমে এসেছে। ফলে শীতের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে বেশি হচ্ছে। অনেক এলাকায় সূর্যের দেখা না পাওয়ায় ভূমি উত্তপ্ত হতে না পারাও শীত বাড়ার একটি কারণ।
তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে কোনো শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও শৈত্যপ্রবাহের মতো শীত অনুভূত হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি আরও তিন থেকে চার দিন থাকতে পারে। ১ ও ২ জানুয়ারি তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে ৬ ও ৭ জানুয়ারি থেকে আবার তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
রোববার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের অধিকাংশ এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। ঢাকায় ওই দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফে, ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় আগের দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বন এবং শীতজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।