
আগামী মাসেই ৮০ বছরে পা দিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই সম্প্রতি তার বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিক্যাল সেন্টারে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষা শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, তার শরীরের সবকিছু ‘একেবারে ঠিকঠাক’ রয়েছে। তবে তিনি পরীক্ষার বিস্তারিত মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রকাশ করেননি। সংক্ষিপ্ত ওই পোস্টে ট্রাম্প শুধু নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং নিজেকে সুস্থ বলে উল্লেখ করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই নিজেকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তুলনায় বেশি কর্মঠ ও শারীরিকভাবে ফিট বলে দাবি করে আসছেন। উল্লেখ্য, জো বাইডেন ৮২ বছর বয়সে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে অবসর নেন। সেই তুলনায় নিজের কর্মক্ষমতা ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানই তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের কিছু শারীরিক উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তার ঘাড়ে লালচে দাগ বা ফুসকুড়ির মতো চিহ্ন দেখা যাওয়ার পর নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রধান চিকিৎসক শন বারবাবেলা জানান, এটি গুরুতর কোনো সমস্যা নয়। তিনি বলেন, এটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত একটি সাধারণ ক্রিমের কারণে নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ট্রাম্পের গোড়ালি ফোলা ও হাতে কালশিটে দাগের কিছু ছবি প্রকাশ পেয়েছিল। সেই সময় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে, এসব দাগ মেকআপ দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল কি না। পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট জানান, পায়ের ফোলাভাবটি ছিল সাধারণ শিরাজনিত সমস্যা এবং প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সঙ্গে করমর্দনের কারণেই হাতে সাময়িক কালশিটে দাগ দেখা দিয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের মেডিক্যাল টিম জানিয়েছে, ট্রাম্পের শরীরে ‘ডিপ ভেইন থ্রম্বোসিস’ বা রক্তনালিজনিত গুরুতর কোনো রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসক শন বারবাবেলা আরও জানান, গত অক্টোবরে ট্রাম্পের একটি এমআরআই পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, তার হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ও শারীরিক সক্ষমতা প্রকৃত বয়সের তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় রয়েছে। চিকিৎসকদের দাবি, তার হৃদযন্ত্রের অবস্থা প্রায় ৬৬ বছর বয়সী একজন ব্যক্তির মতো কার্যকর।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৈঠকে ট্রাম্পের চোখ বন্ধ অবস্থায় থাকার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ঘুমিয়ে পড়েছেন বলেও সমালোচনা হয়। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প নিজেই রসিকতা করে বলেন, তিনি ঘুমাননি; বরং বিরক্তিকর বৈঠক দ্রুত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন।