
যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের বাস্তবতায় গাজায় এবারের ঈদুল আজহা পালিত হচ্ছে এক কঠিন পরিবেশে। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে ঈদের আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এতটাই বেড়েছে যে অনেক পরিবারের জন্য মৌলিক খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন পোশাক, কোরবানির পশু কিংবা ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার—সবকিছুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার অধিকাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত এবং বড় অংশের মানুষ এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। সীমান্ত দিয়ে পর্যাপ্ত পণ্য প্রবেশ না করায় খাদ্য ও নিত্যপণ্যের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
কোরবানির পশুর বাজারেও দেখা দিয়েছে ভয়াবহ সংকট। যুদ্ধের আগে যে ভেড়া বা ছাগল তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেত, এখন তার দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে অধিকাংশ পরিবারের পক্ষেই কোরবানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের কারণে খামার ধ্বংস, পশুখাদ্যের সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে পশুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে গাজায় যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় পশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
শুধু কোরবানি নয়, ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুত করাও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের সংকটসহ নানা সমস্যার কারণে ঘরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি করা যাচ্ছে না।
তবুও সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও কিছু পরিবার শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছে। তবে অধিকাংশ বাসিন্দার মতে, এবারের ঈদ আনন্দের চেয়ে বেশি বেদনা, অনিশ্চয়তা ও বেঁচে থাকার সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।