
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এই দফার ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে একটি আসনকে কেন্দ্র করে সবার নজর এখন নিবদ্ধ—কলকাতার ভবানীপুর, যেখানে মুখোমুখি হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী Mamata Banerjee এবং বিজেপি নেতা Suvendu Adhikari।
এই লড়াইকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কারণ, এই আসনের ফলাফল দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থানকে অনেকটাই নির্ধারণ করতে পারে। ভোটারদের মধ্যেও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড ৯২ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এত বেশি ভোটার উপস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে বিশ্লেষণ ও কৌশল নির্ধারণের প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। এখন সবার দৃষ্টি দ্বিতীয় দফার ভোটের ফলাফলের দিকে।
দক্ষিণবঙ্গ ঐতিহ্যগতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই অঞ্চলের ১৪২টি আসনের মধ্যে ১২৩টিতে জয়লাভ করেছিল দলটি। অন্যদিকে বিজেপি ১৮টি আসন পায় এবং বামফ্রন্ট মাত্র একটি আসনে জয়ী হয়। ফলে এবারও এই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা তৃণমূলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই ঘাঁটি ভাঙাই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য।
নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্ন ইস্যু সামনে আনা হয়েছে। বিজেপি চাকরি সংকট, অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি এবং নারীর নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। এই প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi, যা নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করেছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ‘বহিরাগত’ ইস্যু, রাজ্যের সংস্কৃতি এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব বিষয় তুলে ধরে ভোটারদের কাছে সমর্থন চাইছেন।
এদিকে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগও সামনে এসেছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
এই দফায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা, অরূপ বিশ্বাস, ব্রাত্য বসু, সুজিত বসু এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে লড়ছেন স্বপন দাশগুপ্ত, রূপা গাঙ্গুলিসহ আরও অনেকে।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। বিশেষ করে ভবানীপুর আসনের ফলাফল পুরো নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ভোট গণনা আগামী ৪ মে অনুষ্ঠিত হবে। সেই দিনই জানা যাবে কোন দল সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং কোন নেতার রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে।