
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন কিশোরগঞ্জ শহরের বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মো. ছাইফুল্লাহ।
ঐতিহ্য অনুযায়ী শটগানের গুলি ফুটিয়ে ঈদের জামাত শুরু করা হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন করতে মাঠজুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মাঠের দাগ কাটা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিদ্যুৎ সংযোগ, ওজুখানা, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ৩১টি চেকপোস্ট ও ৭টি আর্চওয়ে গেট স্থাপন করা হয়েছে। ৫০টি মেটাল ডিটেক্টর, ড্রোন, সিসি ক্যামেরা ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন থাকবে। প্রায় ৬১৬ জন পুলিশ সদস্যসহ র্যাব ও বিজিবি সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের জন্য বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে সহজে শোলাকিয়ায় আসা-যাওয়া করতে পারেন তারা।
শোলাকিয়া ঈদগাহের ইতিহাস প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো। ১৮২৮ সাল থেকে এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, একসময় এখানে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করায় এর নামকরণ ‘শোলাকিয়া’ হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই ঈদগাহকে আরও আধুনিক ও সুন্দর করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে যায়, তাই উন্নয়ন প্রয়োজন।