
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটের সকালে এবার এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেল। প্রচলিত রেওয়াজ ভেঙে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালেই নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে বুথ পরিদর্শনে বের হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত ভোটের দিন সকালে তিনি বাড়িতেই অবস্থান করেন এবং দুপুরের দিকে ভোট দিতে যান। তবে এবার সেই ধারা থেকে সরে এসে সকাল থেকেই মাঠে নামলেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী পরিচয়ের বাইরে নিজেকে একজন সাধারণ প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন মমতা। ভোট শুরুর আগেই তিনি কালীঘাটের বাসভবন থেকে বেরিয়ে প্রথমে চেতলা এলাকায় যান। সেখানে স্থানীয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
চেতলা এলাকায় গিয়ে তিনি দেখা করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ফিরহাদ হাকিম-এর সঙ্গে। এ সময় সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি ছিল অস্বাভাবিক ও আতঙ্ক সৃষ্টিকারী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে দরজায় ধাক্কা দেওয়ায় বাড়ির নারী সদস্যরা ভীত হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে, এই কেন্দ্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী-ও সকাল থেকেই সক্রিয় রয়েছেন। তিনিও বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখছেন এবং ভোটের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন। মমতার সকালের এই পদক্ষেপকে তিনি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।
শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না।” তার দাবি, প্রতিকূল পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার রেওয়াজ ভেঙে ভোটের শুরুতেই রাস্তায় নেমেছেন। তার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সাধারণত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুপুরের পর নিজের ভোট প্রদান করেন। ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনেই তিনি ভোট দেন বলে পরিচিত। কিন্তু এবার সকাল থেকেই তার সক্রিয় উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভোটারদের কাছে সরাসরি বার্তা পৌঁছানোর একটি কৌশলও হতে পারে।
এদিকে, ভোটের দিন সকাল থেকেই দুই পক্ষের এমন সক্রিয় উপস্থিতি ভবানীপুরের নির্বাচনী লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি মাঠে নামা, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নজরদারি—সব মিলিয়ে কেন্দ্রটির ভোটযুদ্ধ এখন তুঙ্গে।
সবকিছু মিলিয়ে, এবারের ভোটে শুধু ফলাফল নয়, বরং প্রার্থীদের আচরণ ও কৌশলও সমানভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। রেওয়াজ ভেঙে সকালের এই পদক্ষেপ মমতার জন্য কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।