
দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রশাসন। সরকারি হস্তক্ষেপে ভেঙে দেওয়া হয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)। এর ফলে দেশটির ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডের কর্মকর্তারা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কার্যত এসএলসি বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং নতুন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বর্তমান সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার এখনো প্রায় ১১ মাস বাকি থাকলেও বিশেষ এক সভা ডেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা দলকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নতুন অন্তর্বর্তী কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন সাবেক বিনিয়োগ ব্যাংকার, যিনি একই সঙ্গে একজন বিরোধী রাজনীতিবিদ হিসেবেও পরিচিত। এতে বোঝা যাচ্ছে, নতুন কমিটি গঠনে রাজনৈতিক প্রভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দীর্ঘদিন ধরেই এসএলসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগ জনমনে অসন্তোষ তৈরি করে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে।
একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে সম্প্রতি বোর্ড সভাপতি শাম্মি সিলভা-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে নতুন ব্যবস্থাপনায় বোর্ড পরিচালনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নতুন কিছু নয়। এর আগেও ২০২৩ সালের নভেম্বরে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে আইসিসি এসএলসির সদস্যপদ স্থগিত করেছিল। পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয় এবং শাম্মি সিলভার নেতৃত্বে বোর্ড পুনর্বহাল করা হয়।
তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে আবারও বোর্ড ভেঙে দেওয়ায় নতুন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইসিসি আবারও কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার আরেকটি দেশ বাংলাদেশেও সম্প্রতি ক্রিকেট বোর্ডে পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে বোর্ড পরিচালনায় সরকারি ভূমিকা নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনিক অস্থিরতা একটি দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে দ্রুত একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।
সব মিলিয়ে, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ঘটনা শুধু দেশটির ক্রিকেট নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন সবার দৃষ্টি নতুন অন্তর্বর্তী কমিটি এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের দিকে।