
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহার আগাম নামাজ ও ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার সকালে গাবতলী রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী ও শিশুসহ অর্ধশতাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলীতে এবার নিয়ে চতুর্থবারের মতো আগাম ঈদ উদযাপন করা হলো। একইসঙ্গে জেলার সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার কিছু স্থানেও এমন জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর মসজিদের ভেতরে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
নামাজে ইমামতি করেন স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান। তিনি পেশায় একজন দর্জি হলেও দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় চর্চার সঙ্গে যুক্ত। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
স্থানীয়দের দাবি, ২০১২ সাল থেকে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছেন। তাদের মতে, বিশ্বজুড়ে চাঁদ এক হওয়ায় একই দিনে ধর্মীয় বিধান পালন করাই যুক্তিযুক্ত। প্রযুক্তির উন্নতির কারণে চাঁদ দেখার খবর দ্রুত পাওয়া যায় বলেও তারা মন্তব্য করেন।
ধুনট থেকে আসা মুসল্লি আব্দুস সালাম বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তারা আরাফাতের দিন সিয়াম পালন করেন এবং ঈদের দিন ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন। পরে তারা নিজ নিজ এলাকায় কোরবানি সম্পন্ন করেন।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ধর্মীয় বিষয়ে মতভেদ থাকলেও আলোচনা ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত।
এদিকে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। গাবতলী মডেল থানার ওসি জানান, নামাজ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং মুসল্লিরা স্বাভাবিকভাবে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন।