
চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি গড়তে নতুন পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে রোবোটিক ল্যান্ডার, ‘হপিং ড্রোন’ এবং বিশেষ ধরনের যান পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৃহৎ প্রকল্পে একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করেছে নাসা। এর মধ্যে রয়েছে জেফ বেজোসের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনও।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো, ২০২৯ সালের মধ্যে আবারও চাঁদে আমেরিকান নভোচারী অবতরণ করানো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই লক্ষ্য পূরণ করতে চায় ওয়াশিংটন।
তবে চাঁদ জয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে চীন। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে নিজস্বভাবে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
গত সোমবার (২৫ মে) চীন তাদের ‘শেনঝৌ-২৩’ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে। এর মাধ্যমে তিয়ানগং স্পেস স্টেশনে নতুন নভোচারী দল পাঠানো হয়।
অন্যদিকে গত মার্চে নাসা ঘোষণা দেয়, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ২০৩২ সালের মধ্যে পারমাণবিক ও সৌরশক্তি নির্ভর একটি স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, এই প্রকল্প যুক্তরাষ্ট্রকে চাঁদ গবেষণায় আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তার মতে, এই ঘাঁটি নির্মিত হলে সেখানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, মূল্যবান খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।
তবে অনেক বিশেষজ্ঞ নাসার নির্ধারিত সময়সূচি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রযুক্তিগত জটিলতা ও ল্যান্ডিং সিস্টেমের সীমাবদ্ধতার কারণে চীনই হয়তো প্রথম দেশ হিসেবে নতুন করে চাঁদে মানুষ অবতরণ করাতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব ওপেনের লুনার বিজ্ঞানী ড. সিমিওন বার্বার বলেন, নাসা এখনো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে চন্দ্রপৃষ্ঠে নিরাপদ অবতরণ প্রযুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পথ সহজ নয়।
মহাকাশ গবেষণায় নতুন এই প্রতিযোগিতা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান অঙ্গনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।