
বগুড়া শহরের জামিলনগর এলাকায় একটি খেজুরের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে গুদামের মূল্যবান পণ্য, প্যাকেজিং মেশিন এবং একটি পিকআপ ভ্যান পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে শহরের আজিজুল হক কলেজের সামনে অবস্থিত মেসার্স সায়েম ট্রেডার্সের গুদামে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করেই গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বগুড়া ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় পুলিশ সদস্যরাও ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
গুদামের মালিকপক্ষ জানায়, এখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও বিদেশ থেকে খেজুর এনে বাছাই ও রিপ্যাকিং করে বাজারজাত করা হতো। আগুনের সময় গুদামের ভেতরে বিপুল পরিমাণ খেজুর ও প্যাকেজিং সামগ্রী মজুত ছিল।
সায়েম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারীর বড় ছেলে ডা. রায়হান জানান, তিনি হাসপাতালে ছিলেন। পরে বাসায় খবর পান যে গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। দ্রুত এসে দেখেন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা স্পার্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গুদামের ছাদে রাখা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার খালি কার্টুন সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। পাশাপাশি একাধিক কনটেইনারে থাকা আমদানিকৃত খেজুর এবং দুটি প্যাকেজিং মেশিন আগুনে নষ্ট হয়ে গেছে।
এছাড়া খেজুর পরিবহনের একটি পিকআপ ভ্যান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় এবং আরেকটি গাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব না হলেও তা আড়াই কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক রফিকুজ্জামান জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে ঘন ধোঁয়া ও দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগছে।
তিনি বলেন, আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার পরই এর প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয় এবং পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
সব মিলিয়ে এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।