
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে পারস্য উপসাগর ছেড়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ–এর বরাতে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ট্যাংকার “মুবারাজ” মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দাস দ্বীপ স্থাপনা থেকে এলএনজি বোঝাই করে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে জাহাজটি ভারতের দক্ষিণ উপকূল অতিক্রম করছে বলে জানা গেছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সেবা মেরিন ট্রাফিক–এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৮ দিন আগে ট্যাংকারটি পারস্য উপসাগর এলাকায় অবস্থান করছিল।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত। এই পথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বড় অংশের তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে। ফলে এই এলাকায় যেকোনো উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই অঞ্চল দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেক শিপিং কোম্পানি নিরাপত্তার কারণে বিকল্প রুট বিবেচনা করতে শুরু করে।
তবে সর্বশেষ এই ট্যাংকারের সফল যাত্রা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যেও সীমিত পরিসরে জ্বালানি পরিবহন অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে এলএনজি ও তেলের দামেও ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো এই অঞ্চলের জাহাজ চলাচলের ওপর কড়া নজর রাখছে।
সব মিলিয়ে, সংঘাতের পর প্রথম এলএনজি ট্যাংকারের হরমুজ প্রণালি অতিক্রম বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।