
দেশের স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বড় সংকট সম্পদের ঘাটতি নয়, বরং সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার ও অব্যবস্থাপনা—এমন মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত “নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা : গবেষণা থেকে নীতি নির্ধারণ” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং কোরাস (CHORUS)।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে যে সম্পদ রয়েছে, তার একটি বড় অংশ এখনো পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে না। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য ডেটা-নির্ভর প্রযুক্তি এবং গবেষণাভিত্তিক নীতিনির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত নীতিনির্ধারণে যথাযথভাবে প্রয়োগ করা গেলে নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
সেমিনারে নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবার মান প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছে না।
ড. এম এ মুহিত বলেন, স্বাস্থ্য মানে শুধু রোগের চিকিৎসা নয়, এটি শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির বিষয়ও। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সময় হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হলেও রোগীর অভিজ্ঞতা বা পরিবেশ যদি সন্তোষজনক না হয়, তাহলে সেটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা হিসেবে বিবেচিত হয় না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের সন্তুষ্টিই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। যেহেতু সরকার জনগণের সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছে, তাই জনগণের প্রকৃত স্বাস্থ্য চাহিদা নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দ্রুত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমিত অবকাঠামোর কারণে চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন।
সেমিনারে উপস্থিত গবেষকরা জানান, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনবল ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে, যেখানে সম্পদের কার্যকর ব্যবহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।