
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে অসংখ্য গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে দুই উপজেলা এখন কার্যত বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের তীব্রতায় সড়ক, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সাধারণ জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ঝড়ে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম-ঢাকা সড়কের মুসলিমপাড়া, রসুলপুর ও বাইল্যাছড়ি বুদুংপাড়া এলাকায় কয়েক কিলোমিটারজুড়ে অসংখ্য বড় গাছ উপড়ে পড়ে। এতে প্রধান সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় রসুলপুর ও বুদুংপাড়া এলাকায় শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় গাছ অপসারণ করে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়।
ঝড়ের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়। মাটিরাঙ্গার রসুলপুর এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় মাটিরাঙ্গা ও গুইমারা উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ে যায়। চলমান এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় কিছু কেন্দ্রে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এক পরীক্ষার্থী জানায়, ঝড় ও বিদ্যুৎহীনতার কারণে অন্ধকার ও আতঙ্কের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে হয়েছে। বজ্রপাত ও ঝড়ের শব্দে অনেকেই ভয় পেয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি।
মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল বলেন, ঝড়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
অন্যদিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান জানান, ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুতের দুটি খুঁটি ভেঙে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, সড়ক থেকে গাছ সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে, তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে।
সব মিলিয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে খাগড়াছড়ির দুই উপজেলায় ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে।