
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় নারী ধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ)। সোমবার (তারিখ উল্লেখ নেই) এ বিষয়ে ডিএমপি তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে জানায়, প্রচারিত তথ্যের কোনো বাস্তব ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ও পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয়—“উত্তরায় ঈদের মার্কেট করতে এসে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে।” এই পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি তৈরি করে।
তবে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন স্পষ্টভাবে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানে রাজধানীর উত্তরা, ঢাকা মহানগরী বা দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, যার লক্ষ্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা।
পুলিশ আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পুরোনো বা ভিন্ন দেশের ভিডিওকে বাংলাদেশে ঘটেছে বলে দাবি করে প্রচারের একাধিক ঘটনা ফ্যাক্টচেক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এসব অপপ্রচার শুধু সামাজিক অস্থিরতা নয়, বরং জননিরাপত্তা সম্পর্কেও ভুল ধারণা তৈরি করছে।
ডিএমপি সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো পোস্ট বা ভিডিও যাচাই ছাড়া শেয়ার না করতে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, কোনো তথ্য পাওয়ার পর তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম থেকে যাচাই করা উচিত।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, যারা এ ধরনের গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, কারণ একটি ভুল তথ্য দ্রুত বড় ধরনের সামাজিক সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল যুগে ভুল তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে পড়ার গতি অনেক বেশি, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক তৈরি করে। তাই যাচাই ছাড়া কোনো সংবেদনশীল তথ্য বিশ্বাস না করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
সবশেষে ডিএমপি পুনরায় স্পষ্ট করে জানায়, উত্তরা বা রাজধানীতে ধর্ষণের এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ গুজব।