
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে রাষ্ট্রপক্ষ বহু মামলায় পরাজিত হয়, যা প্রমাণ করে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা বজায় আছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের বিচার ব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং মামলা জট নিয়েও কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিশাল মামলা জটের অন্যতম কারণ হলো পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারক ও আইনজীবীর অভাব। তিনি মনে করেন, যদি বিচারক ও আইনজীবীর সংখ্যা বাড়ানো যায়, তাহলে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে শুধু কাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নও জরুরি। আদালতে মামলার চাপ কমাতে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় তিনি একটি আলোচিত মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকার। বিশেষ করে রামিসা হত্যা মামলার বিচার যাতে সঠিক ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ ও স্বাধীনভাবে কাজ করছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, মামলা নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রিতা একটি বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এই সমস্যা সমাধানে বিচার বিভাগে আধুনিকীকরণ, ডিজিটালাইজেশন এবং জনবল বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় আইনমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি সম্পর্কেও খোঁজ নেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দেশের বিচার ব্যবস্থা ও মামলার চাপ।
আইনমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বিচার বিভাগের কার্যকারিতা নিয়ে সরকারের অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে দীর্ঘসূত্রিতার বাস্তব চিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।
সব মিলিয়ে আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের বিচার ব্যবস্থা, মামলা জট এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।