
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে এক মাদরাসাছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আক্কেলপুর সিনিয়র আলিম মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে।
বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর নাম সাদিয়া আক্তার। তিনি চৌধুরীপাড়া মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিলেন এবং ওই কেন্দ্রের একমাত্র পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পরীক্ষা চলাকালীন আরবি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় নকল করার সময় কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রদর্শক তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্র সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গ করায় শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনন্তপুর চৌধুরীপাড়া মহিলা দাখিল মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন এখনও চালু রয়েছে। ফলে পরীক্ষার সময় অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী এনে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো হয়।
বহিষ্কৃত সাদিয়া আক্তার মূলত জয়পুরহাট জামিয়াতুল ইসলামিয়া রাবেয়া বসরী মহিলা মাদরাসা (কওমি বিভাগ)-এর ছাত্রী বলে জানা গেছে। প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানো হয়েছিল।
চৌধুরীপাড়া মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার জিয়াউর রহমান বলেন, “আমাদের মাদরাসা থেকে একজন পরীক্ষার্থীই অংশ নিয়েছিল। নকল করার কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। তবে রেজিস্ট্রেশন এখনো চালু রয়েছে।”
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনও ব্যবস্থা নিয়েছে। আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা জান্নাত বলেন, পরীক্ষায় নকলের দায়ে ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি জানান, নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব পরীক্ষা কেন্দ্রে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড-এর নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষায় নকল করা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এ ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক বহিষ্কারসহ ভবিষ্যৎ পরীক্ষায় অংশগ্রহণেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরীক্ষায় নকল প্রতিরোধে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি। একই সঙ্গে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নকলমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।