
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় হঠাৎ করে খালের একটি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে পড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জামগড়া খালের পাশের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার ফলে দ্রুত পানি প্রবেশ করে আশপাশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে দেয়, যার প্রভাব পড়েছে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেতে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ইকারছই বিল সংলগ্ন মোট ১২টি গ্রামের কৃষকরা এ বছর প্রায় ১১৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। এর মধ্যে ৫০ হেক্টর হাওর এলাকায় এবং ৬৪ হেক্টর নন-হাওর এলাকায় অবস্থিত। ইতোমধ্যে কিছু জমির ধান কাটা শেষ হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফসল এখনো মাঠে রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, হাওর এলাকার প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান এবং নন-হাওর এলাকার ৬ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। তবে বাকি জমির ফসল এখনো পরিপূর্ণভাবে কাটার সুযোগ হয়নি। এ অবস্থায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় প্রায় ৬৮ হেক্টর জমির ধান মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে পরিস্থিতি হঠাৎ করেই জটিল হয়ে ওঠে। প্রবল পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে জামগড়া খালের পাশের একটি গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যায়, যা স্থানীয়ভাবে বাঁধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এই ভাঙনের ফলে হাওরের নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত পানি ঢুকে পড়ে এবং ধানক্ষেত প্লাবিত হতে শুরু করে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। অনেক জমির ধান এখনো পুরোপুরি পাকেনি। ফলে সেগুলো কাটার মতো অবস্থায় নেই। আবার যেসব জমির ধান কিছুটা পেকেছে, সেগুলোও বৃষ্টি ও জমে থাকা পানির কারণে দ্রুত কাটতে পারছেন না কৃষকরা।
একজন কৃষক জানান, হঠাৎ করে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তারা পুরোপুরি বিপাকে পড়েছেন। অনেক কষ্ট করে উৎপাদিত ধান এখন পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্য এক কৃষক বলেন, তার জমির ধান এখনো কাটা সম্ভব হয়নি, ফলে ক্ষতির শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জানান, যে অংশটি ভেঙে গেছে সেটি মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো স্থায়ী বাঁধ নয়, বরং একটি গ্রামীণ সড়ক। নেত্রকোনার দুর্গাপুর এলাকা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপেই এটি ভেঙে গেছে।
তিনি আরও জানান, ভাঙন রোধে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, হাওরের একটি বড় অংশের ধান ইতোমধ্যেই কাটা হয়েছে, যা কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
তবে এখনও যে পরিমাণ জমির ধান মাঠে রয়েছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েই গেছে। যদি পানি বৃদ্ধি পায়, তাহলে অবশিষ্ট ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি শুধু কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাই তৈরি করছে না, বরং খাদ্য উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ফসল রক্ষা করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।