
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার উপজেলার বাটাজোর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—উজিরপুর উপজেলার ফিরোজ মাহমুদ (৩৬), তার স্ত্রী মনিরা বেগম (২৬) এবং তাদের চার বছরের কন্যাসন্তান জান্নাত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত পরিবারটি মোটরসাইকেলে করে বরিশাল থেকে গৌরনদীর দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বাটাজোর এলাকায় পৌঁছালে বরিশালগামী একটি যাত্রীবাহী বাস, তাজ আনন্দ পরিবহন, তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে যান। একটি পরিবারের তিন সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যু এলাকাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বিশেষ করে শিশুটির মৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে আরও বেশি হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি জব্দ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ওই সড়কে প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে বাস ও মোটরসাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি। তারা দাবি করেন, সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা না হলে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
নিহতদের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্বজনরা ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের দিকে ছুটে যান। একসঙ্গে তিনজনকে হারিয়ে পরিবারটি শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীরাও পরিবারটির প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে কাজ চলছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটির বেপরোয়া গতিই এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে, তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল ও বাসের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। নিয়ম না মানা, দ্রুত গতি এবং সড়কে পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তারা সড়কে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঈদের আগে এমন ঘটনা মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।