
দেশের তৈরি পোশাক খাতে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধে প্রায় শতভাগ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (BGMEA)।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট ২ হাজার ১৩৩টি চালু কারখানার মধ্যে ২ হাজার ১২৫টি কারখানা ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে, যা মোট কারখানার ৯৯.৫৮ শতাংশ।
বিজিএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ১ হাজার ৭৯০টি এবং চট্টগ্রামের ৩৩৫টি কারখানায় ঈদ বোনাস প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, এটি দেশের গার্মেন্টস খাতে শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও ঈদ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
শুধু ঈদ বোনাসই নয়, এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধেও প্রায় শতভাগ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। মোট ২ হাজার ১২৮টি কারখানা এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেছে, যা ৯৯.৭২ শতাংশ। এর মধ্যে ঢাকার ১ হাজার ৭৯০টি এবং চট্টগ্রামের ৩৩৮টি কারখানা রয়েছে।
এছাড়া মে মাসের অগ্রিম বেতন পরিশোধের বিষয়েও তথ্য দিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটি জানিয়েছে, মোট ২ হাজার ২৩টি কারখানা অগ্রিম বেতন পরিশোধ করবে, যা মোট কারখানার ৯৪.৮০ শতাংশ।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো তৈরি পোশাক শিল্প, যেখানে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন। ঈদের মতো বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিজিএমইএ-এর মতে, সময়মতো বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করার মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে এবং তারা নির্বিঘ্নে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।
তবে শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, অর্ডার প্রবাহ এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপের মধ্যেও এত বড় সংখ্যক কারখানায় সময়মতো বেতন-বোনাস প্রদান একটি ইতিবাচক সংকেত।
একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছেও বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতের নির্ভরযোগ্যতা ও শৃঙ্খলার একটি বার্তা দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, ঈদের আগে গার্মেন্টস খাতে প্রায় শতভাগ বেতন ও বোনাস পরিশোধ দেশের শ্রমিকদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।