
বলিউড অভিনেতা Ranveer Singh-কে ঘিরে নতুন করে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ফারহান আখতার পরিচালিত বহুল আলোচিত সিনেমা Don 3 থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়ানোর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের চলচ্চিত্র শ্রমিকদের সংগঠন FWICE।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা অশোক পণ্ডিত জানান, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ফারহান আখতার আনুষ্ঠানিকভাবে রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শুটিং শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে রণবীর সিং প্রকল্পটি থেকে সরে দাঁড়ান, যার ফলে সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশন এবং কাজের পরিকল্পনায় বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।
সংগঠনটির দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং অনেক কর্মীর জীবিকা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। সূত্র অনুযায়ী, এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে প্রায় ৪৫ কোটি রুপি বিনিয়োগ করা হয়েছিল, যা এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
FWICE জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা করেছে। প্রযোজক রিতেশ সিধওয়ানি আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন এবং ফারহান আখতার লন্ডন থেকে অনলাইনে যুক্ত হন। তবে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও রণবীর সিং কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেননি বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে রণবীর সিংয়ের টিম ই-মেইলের মাধ্যমে জানায়, এই বিষয়ে ফেডারেশনের হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি অধিকার নেই। এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে জানায় FWICE।
সংগঠনের সভাপতি বিএন তিওয়ারি বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পে হাজারো শ্রমিক নির্ভরশীল। একটি সিনেমা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে শুধু বড় তারকারাই নয়, জুনিয়র শিল্পী ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরাও সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েন। তিনি আরও বলেন, “কোনো ব্যক্তি যত বড় তারকাই হোন না কেন, তিনি নিয়মের ঊর্ধ্বে নন।”
এই অবস্থায় FWICE ঘোষণা দেয়, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রণবীর সিংয়ের সঙ্গে তাদের সদস্যরা কোনো ধরনের কাজ করবেন না। সংগঠনটি এটিকে একটি “অসহযোগিতা সিদ্ধান্ত” হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনো রণবীর সিং বা তার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায় তা নিয়ে বলিউড মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বর্তমানে Ranveer Singh ও Don 3–কে ঘিরে তৈরি হওয়া এই সংকট সমাধানের জন্য আলোচনার পথ খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব বলিউডের বড় বাজেটের প্রজেক্টগুলোতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।