
নাটোরের লালপুর উপজেলায় রেললাইনের পাশ থেকে এক প্রতিবন্ধী যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে উপজেলার আজিমনগর রেলস্টেশন ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের মধ্যবর্তী পাটিকাবাড়ী এলাকার ২১৩ নম্বর ব্রিজের নিচ থেকে আশিক (২৮) নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আশিক লালপুর উপজেলার গোপালপুর পৌরসভার বৈদ্যনাথপুর মহল্লার মহাসিন আলীর ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন। তার মৃত্যু ঘিরে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে এলাকার মানুষ ব্রিজের নিচে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে এবং প্রাথমিক তদন্ত করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভোররাতে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, রেললাইনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নিহত যুবকটি অসাবধানতাবশত ট্রেনের ধাক্কায় পড়ে যেতে পারেন।
নিহত আশিকের পরিবার জানিয়েছেন, তিনি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং দৈনন্দিন কাজে সীমিতভাবে চলাফেরা করতে পারতেন। তার এমন মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজনরা মরদেহ দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশ বলছে, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। পুরো এলাকায় এখনো শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।