
ইরাকে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। গত রবিবার (২৪ মে) বাংলাদেশ সময় ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
নিহত দুই প্রবাসী হলেন—মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার খলিল মণ্ডলের ছেলে মনোহার আলী (৩৫) এবং চর পাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে বজলু (৪০)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তারা দুজনই ইরাকে একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারান। ঘটনাটি ঘটে ভোররাতে, যা পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে স্বজনরা জানতে পারেন।
নিহত মনোহার আলী প্রায় চার বছর আগে ঋণ করে জীবিকার সন্ধানে ইরাকে পাড়ি জমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৈধ পারমিট না থাকায় তিনি সেখানে নানা ধরনের কষ্টের মধ্যে কাজ করে দেশে টাকা পাঠাতেন। তবে দীর্ঘ চার বছরেও তিনি পরিবারের নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অন্যদিকে নিহত বজলু প্রায় দেড় বছর আগে ঋণ করে বিদেশে যান। পরিবারকে ভালোভাবে দেখাশোনা করার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ গেলেও তার জীবনও একইভাবে করুণ পরিণতির দিকে যায়।
পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার আগের দিন রাতে দুই পরিবারের সঙ্গে তাদের শেষ কথা হয়। সে সময় তারা পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং শিগগিরই দেশে ফেরার ইচ্ছার কথাও জানান। সেই শেষ কথাই এখন পরিবারগুলোর কাছে স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে একই দিনে সকালে প্রাকৃতিক ঝড়ে মনোহার আলীর পরিবারের ঘরের চাল উড়ে যায়। এতে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে পরিবারটি আরও বিপাকে পড়ে যায়। একদিকে স্বামীর মৃত্যু, অন্যদিকে ঘরবাড়ির ক্ষতি—সব মিলিয়ে পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
দুই প্রবাসীর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী জানিয়েছেন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
ইউএনও আরও জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারকে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
সব মিলিয়ে ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু শুধু দুটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকায় শোক ও হতাশার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।