
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে কফিল উদ্দিন মাস্টার (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উপজেলার ৯ নম্বর হরিরামপুর ইউনিয়নের হরিপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মতে, এই সংঘর্ষ পূর্ব বিরোধের ধারাবাহিকতায় হঠাৎ করেই রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কফিল উদ্দিন মাস্টারের সঙ্গে একই এলাকার ইউপি সদস্য জলিল ও তার লোকজনের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার দিন সকালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালীন প্রতিপক্ষের লোকজন কফিল উদ্দিন মাস্টারের ওপর লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে যাতে কোনো সহিংসতা না ঘটে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এই এলাকায় নতুন কিছু নয়। তবে সময়মতো প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না থাকায় অনেক সময় তা সহিংস রূপ নেয়। এই ঘটনার পরও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত কফিল উদ্দিন মাস্টারের পরিবার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।