
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় টানা বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সোমবার (২৫ মে) দুপুর ২টা থেকে মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর পর্যন্ত এই দুই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল অপারেটরগুলোর নেটওয়ার্ক সেবাও সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পুরো এলাকা কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কিছু কিছু জায়গায় সীমিত আকারে নেটওয়ার্ক পাওয়া গেলেও অধিকাংশ এলাকায় কোনো সেবা নেই।
এছাড়া ওয়াইফাই সেবাও সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, ফলে ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি যোগাযোগ সবকিছুই স্থবির হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিন ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে মাত্র এক ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল। সেটিও আবার মাঝে মাঝে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। ফলে তারা কার্যত বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়েও অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীরা। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোভ্যান চালকরা জানান, চার্জ দিতে না পারায় তারা গাড়ি রাস্তায় নামাতে পারছেন না। এতে আয় কমে গেছে কয়েকগুণ।
একজন চালক বলেন, আগে যেখানে দিনে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় হতো, এখন সেখানে ১৫০ থেকে ২০০ টাকাও আয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সামনে ঈদ থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে মিষ্টি ও বেকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় তারা কুপিবাতি ও মোমবাতি জ্বালিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
কাপড় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে আলো না থাকায় ক্রেতারা কেনাকাটা করতে পারছেন না। পাশাপাশি সফটওয়্যারের মাধ্যমে লেনদেনও বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে এখনো পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত এই সমস্যার সমাধান এবং স্থায়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।