
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ৩৯ নম্বর কাজহরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটে ভুগছে। বর্তমানে ছয়টি শ্রেণির মোট ৩১৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালনা করছেন মাত্র ৩ জন শিক্ষিকা, যার ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি স্থানীয় প্রায় ১০টি গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য একমাত্র ভরসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। আশপাশে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব থাকায় প্রতি বছর এখানেই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তবে প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী এখানে অন্তত ৭ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। তবে এর মধ্যে একজন শিক্ষিকা মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় নিয়মিতভাবে ক্লাস নিচ্ছেন মাত্র ৩ জন। আরও একজন শিক্ষিকার বদলির আদেশ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান শিক্ষক দুলাল মিয়া বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর থেকে এখনো নতুন কোনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষিকা মমতাজ আক্তার।
ফলে তিনজন শিক্ষিকাকে প্রতিদিন একসঙ্গে সব শ্রেণির ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে করে পাঠদানের গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় মনোযোগ পাচ্ছে না, অন্যদিকে শিক্ষিকাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, এভাবে চলতে থাকলে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা দ্রুত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ এবং স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষিকাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যালয়টি দূরবর্তী এলাকায় হওয়ায় যাতায়াতের সমস্যা রয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষক এখানে যোগদান করলেও কিছুদিন পরই বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যান। এতে করে শিক্ষক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ আক্তার বলেন, সীমিত জনবল নিয়েই তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যেতে। তবে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জানান, তারা জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এবং শিগগিরই নতুন শিক্ষক নিয়োগের আশা করছেন।
এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আজমল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি তাদের জানা আছে। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নিয়োগ সম্পন্ন হলেই দ্রুত শূন্যপদগুলো পূরণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।