
রাজধানী ঢাকা, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মঙ্গলবার (২৬ মে) বেলা ১১টা ৪১ মিনিটের দিকে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই কম্পনে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই বাসা-বাড়ি ও অফিস থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার, যা তুলনামূলকভাবে অগভীর ভূকম্পন হিসেবে ধরা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর এলাকা থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে। এছাড়া কেন্দ্রটি ময়মনসিংহ থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং সখিপুর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ছিল। এর ভৌগোলিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪.৩৩ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০.৩৯ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী ঢাকা ছাড়াও গাজীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে অনুভূত হয়। হালকা কম্পন হলেও অনেক মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে বহুতল ভবনে থাকা লোকজন দ্রুত নিচে নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে ভূমিকম্প অনুভূতির বিষয়টি জানান।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সাধারণত বলেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ একটি অঞ্চল হওয়ায় এ ধরনের ছোট মাত্রার ভূমিকম্প মাঝেমধ্যে ঘটে থাকে। যদিও এই ধরনের কম্পন বড় ভূমিকম্পের সরাসরি পূর্বাভাস নয়, তবুও ভবন নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনায় ভূমিকম্প সহনশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জনসাধারণকে ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, খোলা জায়গায় অবস্থান করা এবং লিফট ব্যবহার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।