
কারাগার থেকে আদালতে নেওয়ার পথে প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনায় সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় পলকের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন সকালে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীকে আদালতে হাজির করার জন্য কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে নেওয়া হচ্ছিল। পথিমধ্যে হঠাৎ করে ভ্যানটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ভ্যানে থাকা একাধিক ব্যক্তি আহত হন এবং তাদের মধ্যে পলকও আঘাতপ্রাপ্ত হন।
ঘটনার পরপরই আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আঘাতের মাত্রা বা শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
এই মামলাটি রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। মামলায় একাধিক আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট গ্রেপ্তার হন এবং তখন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আদালত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তাকে মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য নেওয়া হচ্ছিল।
দুর্ঘটনার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণত প্রিজনভ্যান দুর্ঘটনা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকলে তা তদন্তের আওতায় আসে।
এ ধরনের দুর্ঘটনা বিচারপ্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মামলার আসামিদের পরিবহন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।
বর্তমানে পলকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পর্যবেক্ষণ চলছে বলে জানা গেছে। আদালত কার্যক্রম এবং মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া এই ঘটনার পর সাময়িকভাবে প্রভাবিত হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মামলাটি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায় আগামী দিনে মামলার গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।