
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, ফলে গত দেড় মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ মারা যাওয়া তিন শিশুই বিভিন্ন জেলার। এর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ৭ মাস বয়সী এক ছেলে শিশু, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৪ মাস বয়সী এক মেয়ে শিশু এবং নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ৫ মাস বয়সী এক ছেলে শিশু।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব শিশুর মৃত্যুর পেছনে শুধু হাম নয়, বরং নিউমোনিয়া, হার্ট ফেইলিউর এবং ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়ার মতো জটিল রোগও কাজ করেছে। এসব জটিলতা শিশুদের অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ৩৬ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৭৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের বেশিরভাগই হামের উপসর্গে আক্রান্ত।
চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মোট ৯২৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বাকি রোগীদের মধ্যে কিছু এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং কিছু মৃত্যু ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে যাদের বয়স কম এবং টিকা গ্রহণ সম্পূর্ণ হয়নি। সময়মতো টিকা, পুষ্টি এবং দ্রুত চিকিৎসা এই রোগের জটিলতা অনেকাংশে কমাতে পারে।
চিকিৎসকরা অভিভাবকদের সতর্ক করে বলছেন, জ্বর, চর্মরোগ, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। দেরি হলে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়ে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে।
এদিকে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবুও আইসোলেশন ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ময়মনসিংহ অঞ্চলে হামের এই প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত টিকাদান ও সচেতনতা না বাড়ালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।