
দুই মাস ধরে চলমান সংঘাত থামাতে ইরান-এর দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা থাকলেও এতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্বেগগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের মতে, ইরান তাদের প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করবে না। তবে ওয়াশিংটন চায়, আলোচনার শুরুতেই পারমাণবিক ইস্যুতে সমাধান আসুক।
হোয়াইট হাউস-এর মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ধারিত সীমারেখা বা “রেড লাইন” থেকে সরে আসবে না। পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি কূটনৈতিক সমাধানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান, ওমান এবং রাশিয়া সফর করেছেন। ইসলামাবাদে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
ইরানের প্রস্তাবে আরও বলা হয়, সমুদ্রপথে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। এরপরই পারমাণবিক আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব হবে বলে দাবি করে তেহরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পর্যায়ক্রমিক আলোচনার পদ্ধতি মেনে নিতে রাজি নয়। তাদের অবস্থান হলো, প্রথমেই পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে, তারপর অন্য বিষয়গুলো আলোচনা করা যাবে।
এই অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, আগে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে, কারণ এই পথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার ঘটনাকে ইরান “সমুদ্রপথে জলদস্যুতা” বলে অভিহিত করেছে এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ চাপের মুখেও রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের একটি অংশ এই সংঘাতে জড়িত থাকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ফলে রাজনৈতিকভাবে এই ইস্যু তার প্রশাসনের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি সমাধানে কোনো পক্ষই এখনো নমনীয় অবস্থানে আসেনি, ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।