
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এবার নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইউক্রেন এবং ইসরায়েল-এর মধ্যে। ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, রাশিয়া-অধিকৃত অঞ্চল থেকে নেওয়া শস্য ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে পৌঁছেছে, যা তারা ‘চুরি করা শস্য’ হিসেবে উল্লেখ করছে।
ইউক্রেনের দাবি অনুযায়ী, এই শস্য বহনকারী জাহাজটি হাইফা বন্দর-এ পৌঁছায়। জাহাজে থাকা ধান ও গম রাশিয়া দখল করা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এই ঘটনায় কিয়েভ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিগা জানিয়েছেন, তিনি কিয়েভে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ডেকেছেন। সেখানে প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন চালান গ্রহণ না করার আহ্বান জানানো হবে।
ইউক্রেনের অভিযোগ, চলতি মাসেই তারা ইসরায়েলকে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছিল। তবে সেই সতর্কতা সত্ত্বেও হাইফা বন্দরে আবারও একই ধরনের শস্যবাহী জাহাজ পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়। এর আগে আরও একটি জাহাজ একই ধরনের শস্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করেছিল বলে জানায় কিয়েভ।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ইউক্রেনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান না করলেও বলেন, বিষয়টি সামাজিক মাধ্যম বা গণমাধ্যমে নয়, কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা উচিত। তার মতে, এখন পর্যন্ত ইউক্রেন তাদের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।
তিনি আরও জানান, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে যথাযথ প্রমাণ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘প্যানোর্মিটিস’ নামের একটি জাহাজ প্রায় ২৫ হাজার টন গম ও বার্লি নিয়ে হাইফা বন্দরে পৌঁছায় এবং নোঙরের অনুমতির অপেক্ষায় ছিল। ইউক্রেনের দাবি, এই শস্য রাশিয়া দখল করা অঞ্চল থেকে অবৈধভাবে নেওয়া হয়েছে।
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, এই দখলকৃত অঞ্চল থেকে শস্য ও অন্যান্য সম্পদ রাশিয়া নিজেদের বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৪ সালে জানায়, রাশিয়া ইউক্রেনের দখলকৃত অঞ্চল থেকে শস্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করছে, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, চলতি বছরে অন্তত চারটি এমন শস্যবাহী চালান ইসরায়েলে পৌঁছেছে। এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে কথার লড়াই শুরু হয়েছে। ইউক্রেন বলছে, তারা সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না, তবে অবৈধ শস্য বাণিজ্য বন্ধ হওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, এই শস্য চালানকে ঘিরে ইউক্রেন-ইসরায়েল সম্পর্ক নতুন কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন নির্ভর করছে তদন্ত ও কূটনৈতিক আলোচনার ওপর।