
হিলি স্থলবন্দর এলাকায় জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগ হিসেবে ফুয়েল কার্ড চালু হওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দিনাজপুর জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এখন জ্বালানি বিতরণ অনেকটাই সুশৃঙ্খল ও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হিলি ফিলিং স্টেশন-এ ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত গ্রাহকদের মাঝে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা ভিড়, বিশৃঙ্খলা এবং তেল না পাওয়ার অভিযোগ অনেকটাই কমে এসেছে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, আগে যেখানে এক থেকে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সারিতে শত শত মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে থাকত, সেখানে এখন পরিবেশ অনেকটাই ফাঁকা। নিয়মিত ও নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কার্ডের মাধ্যমে তেল দেওয়া হচ্ছে, ফলে অতিরিক্ত ভিড় আর তৈরি হচ্ছে না।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক ইমরান হোসেনসহ অনেকেই জানান, আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় তেল পাওয়া যেত না। এতে তাদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হতো। কিন্তু এখন ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার কারণে দ্রুত এবং সহজে জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে, যা ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, আগে দিনে প্রায় ৩ হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হতো, যা একদিনেই শেষ হয়ে যেত। এখন সেই পরিমাণ তেল বিক্রি হতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগছে। নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকায় এখন কোনো ধরনের সংকটও নেই।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনও এই ব্যবস্থাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার ফলে জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা এসেছে এবং অনিয়ম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভোক্তারা এখন সুশৃঙ্খলভাবে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন।
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সবসময় নজরদারি চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।
ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা চালুর ফলে শুধু ভোক্তাদের ভোগান্তিই কমেনি, বরং জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতাও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের ডিজিটাল বা নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
সব মিলিয়ে, হিলি এলাকায় ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থার ফলে জ্বালানি তেল সরবরাহ এখন অনেক বেশি সহজ, দ্রুত ও নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন উপকৃত হচ্ছে, তেমনি প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হয়েছে।