
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সেবন ও র্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আবাসিক হলের সিট বাতিলসহ একাডেমিক শাস্তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি এবং প্রভোস্ট কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থীর মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, তাদের এক মাসের মধ্যে হল ছাড়তে হবে। পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মাদক সেবন বা র্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার হলের সিট বাতিল করা হবে এবং একই সঙ্গে একাডেমিক শাস্তিও দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করছে, ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এছাড়া সভায় হলগুলোর অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে নষ্ট ফ্যান দ্রুত মেরামত বা প্রয়োজনে নতুন ফ্যান সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বস্তিকর পরিবেশে থাকতে পারে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বিকেল ৫টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে প্রভোস্ট কমিটির সদস্যদের যাতায়াতের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই মাদক ও র্যাগিংয়ের মতো সামাজিকভাবে ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কঠোর নীতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দেবে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
সব মিলিয়ে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।