
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আয় বাড়াতে বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সরকারের লক্ষ্য উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়ানো হলেও অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই বাড়তি করের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপরই পড়বে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চাল, গম, ভোজ্যতেল, আলু, পিঁয়াজ, রসুন, মাছ, মাংস, চিনি ও চায়ের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে উৎসে কর ০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ করার চিন্তা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশা, উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর অগ্রিম আয়কর বৃদ্ধির প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইন মার্কেটিং এজেন্টদের কমিশনের ওপর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। প্লাস্টিক পণ্যে ভ্যাট ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ এবং নির্মাণ খাতে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, অধিক রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে নতুন করে পরোক্ষ কর বাড়ানো সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন, মানুষ নতুন অর্থবছরে স্বস্তি চায়। তাই কর ও ভ্যাট নীতিমালা এমনভাবে নির্ধারণ করা উচিত, যাতে তা জনগণের জন্য সহনীয় হয়।
নতুন বাজেটে এনবিআরের জন্য প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট এবং ৬৭ হাজার কোটি টাকা শুল্ক থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত পরোক্ষ কর নির্ভরতা আয় বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরি জানান, পরোক্ষ করের চাপ তুলনামূলকভাবে গরিব মানুষের ওপর বেশি পড়ে। এতে আয় বৈষম্য আরও গভীর হয়।
এদিকে এনবিআর জানিয়েছে, ভ্যাট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় আট লাখ ভ্যাট নিবন্ধিত করদাতা থাকলেও আগামী চার বছরে তা এক কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।