
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই কেন্দ্রটিতে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি বা ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রকল্পটি নির্মাণ পর্যায় থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুয়েল লোডিং একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ভেতরে ইউরেনিয়াম জ্বালানি স্থাপন করা হয়, যা পরবর্তীতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল শক্তি হিসেবে কাজ করে। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আনা হয় এবং তা সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
এদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ জানিয়েছে, রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য জাতীয় গ্রিড সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সব সঞ্চালন লাইন ইতোমধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, ফলে উৎপাদন শুরু হলেই তা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ফুয়েল লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী আগস্ট মাস থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তীতে এই উৎপাদন ধীরে ধীরে ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকে প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। এটি দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি বড় সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।
অন্যদিকে, প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিট নিয়েও রয়েছে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা। ২০২৭ সালের জুন মাসে দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে একই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ দুই ইউনিট মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।
রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পারমাণবিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এটি দেশের জ্বালানি খাতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব এবং দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী। ফলে রূপপুর প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিল্প, কৃষি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সব মিলিয়ে, আজকের ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুধু একটি প্রযুক্তিগত ধাপ নয়, বরং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা। এখন সবার নজর আগস্ট মাসের দিকে, যখন প্রথমবারের মতো রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার কথা রয়েছে।