
আফ্রিকার দেশ দক্ষিণ সুদান-এ একটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটসহ মোট ১৫ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাজধানী জুবা-র উপকণ্ঠে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিশেষ করে বিবিসি-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার এই দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ সুদানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সকল আরোহীই প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে পাইলটও ছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থলটি জুবা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ আগুনে পুড়ছে এবং চারপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত পৌঁছালেও কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে, ঘন মেঘ ও কম দৃশ্যমানতার কারণে পাইলট বিমান নিয়ন্ত্রণে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কারণ বলা সম্ভব নয়।
দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল সেসনা ২০৮ ক্যারাভান মডেলের, যা পরিচালনা করছিল সিটিলিংক অ্যাভিয়েশন নামের একটি এয়ারলাইনস। ছোট ও মাঝারি দূরত্বের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য এই ধরনের বিমান সাধারণত ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানটি ইয়েই থেকে যাত্রা শুরু করে জুবা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই এটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর কিছু সময়ের মধ্যেই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।
নিহতদের মধ্যে দুজন কেনিয়া-এর নাগরিক ছিলেন, বাকিরা দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দা। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও তাদের পরিবারের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ সুদানে বিমান দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পুরোনো বিমান ব্যবহার এবং অনির্দেশ্য আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার না করলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যাবে।
এই দুর্ঘটনা দেশটির বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিমান নিরাপত্তা মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা দক্ষিণ সুদানের জন্য একটি বড় ধাক্কা। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন ও ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।