
সারা দেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। অধিবেশনটি স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এক সংসদ সদস্য রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন ও রেস্টুরেন্টের আড়ালে অবৈধ সিসা লাউঞ্জ পরিচালনার বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। যুবসমাজকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতের বিভিন্ন সময়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রশাসনের অসাধু অংশের সহায়তায় রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমণ্ডি ও উত্তরার মতো এলাকায় অবৈধ সিসা বার ও মাদককেন্দ্র গড়ে উঠেছিল।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিসা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, অবৈধ ব্যবসা পরিচালনাকারীরা যেন স্থান পরিবর্তন করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি এসব অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধ করার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।