
ইতালির সেরি-আ লিগের শেষ দিনটি পরিণত হলো নাটকীয়তা ও চমকের মঞ্চে। মৌসুমজুড়ে শীর্ষ চারে জায়গা ধরে রাখার লড়াই শেষে সবচেয়ে বড় সুখবরটি পেল Como 1907। ক্রেমনেজেকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দলটি।
মাত্র দুই মৌসুম আগে সেরি-আ’তে জায়গা পাওয়া কোমো এবার যেন রূপকথার গল্পই লিখল। কোচ Cesc Fàbregas-এর অধীনে তরুণ দলটি পুরো মৌসুমে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতায় জায়গা নিশ্চিত করেছে।
শেষ দিনের সমীকরণ অনুযায়ী কোমোর সামনে ছিল তুলনামূলক সহজ পথ। নিজেদের ম্যাচে জিততে পারলেই সুযোগ তৈরি হতো, যদি AC Milan বা AS Roma-এর মধ্যে অন্তত একটি দল পয়েন্ট হারায়। কোমো নিজেদের কাজটি দারুণভাবে সম্পন্ন করে। শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে তারা ক্রেমনেজেকে ৪-১ ব্যবধানে হারায়।
অন্যদিকে বড় ধাক্কা খায় এসি মিলান। ক্যালিয়ারির বিপক্ষে ২-১ গোলের পরাজয়ে তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগের আশা শেষ হয়ে যায়। পুরো মৌসুমে ওঠানামার মধ্যে থাকা মিলান শেষ পর্যন্ত শীর্ষ চারে জায়গা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। ফলে সাতবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে দেখা যাবে না।
এদিকে AS Roma দশজনের ভেরোনাকে হারিয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে। এই ফলের পরই স্পষ্ট হয়ে যায়, কোমো শীর্ষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে। ঐতিহাসিক এই অর্জনে ক্লাবটির সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় উৎসবের আমেজ।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানান কোচ ফ্যাব্রেগাস। তিনি বলেন, এত কম বয়সী একটি দল নিয়ে এমন সাফল্য অর্জন করা তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন। তাঁর ভাষায়, “কিভাবে এবং কাদের নিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছি, সেই দিক থেকে এটা আমার সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি। আমাদের প্রায় সব ফুটবলারের বয়স ২৩ বছরের নিচে। এত কম বয়সী দল নিয়ে এটা করে দেখানো অবিশ্বাস্য।”
এই নাটকীয় সমীকরণের সবচেয়ে বড় হতাশা হয়ে আসে Juventus FC-এর জন্য। দিনের শুরুতে শীর্ষ চারে থাকার আশা থাকলেও রোমা ও কোমোর জয়ে তাদের সম্ভাবনা দ্রুত ফিকে হয়ে যায়। টোরিনোর বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার সময়ই জুভেন্টাস বুঝে যায়, এবার আর চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা হচ্ছে না। ফলে আগামী মৌসুমে ইউরোপা লিগ নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ইতালির অন্যতম সফল এই ক্লাবকে।
সেরি-আ’র এই নাটকীয় সমাপ্তি ইতালিয়ান ফুটবলে নতুন এক গল্পের জন্ম দিল। যেখানে ঐতিহ্যবাহী বড় ক্লাবগুলোর হতাশার মাঝেও কোমোর মতো তুলনামূলক ছোট একটি দল নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের সেরা আসরে।