
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল আগামী ১২ মাসের মধ্যে অপারেশনাল কার্যক্রমে আসবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
সোমবার এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে কাজ চলছে এবং আগামী ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের চেষ্টা থাকবে। তার মতে, প্রকল্পের কাজের মান এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক এবং বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি।
বেবিচক চেয়ারম্যান আরও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসিই ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নিয়মিতভাবে থার্ড টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এতে যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় কোনো বড় ধরনের সমস্যা হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
থার্ড টার্মিনালের প্রযুক্তিগত দিক নিয়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এখানে ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হবে না। টেলিটকসহ অন্যান্য মোবাইল অপারেটর একসঙ্গে কাজ করবে যাতে নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্ক সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। জায়গা ব্যবহারের ভাড়াও টেলিটক প্রদান করবে বলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের জুন মাস থেকে থার্ড টার্মিনালের ঋণ পরিশোধ শুরু হবে, যা ২০৫৬ সাল পর্যন্ত চলবে। বছরে প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনা নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। থার্ড টার্মিনালে বাংলাদেশ বিমানের পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে। এই অংশীদার নির্বাচন করবে জাপানের সুমিতো (Sumitomo) কোম্পানি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে। এতে যাত্রী সেবা উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় গতি আসবে।
এছাড়া বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ভিড় কমবে এবং ইমিগ্রেশন ও ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সেবা আরও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, আগামী এক বছরের মধ্যে থার্ড টার্মিনাল চালুর পরিকল্পনা বাংলাদেশের বিমান খাতে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।