
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বেই, যা দেশের বৃহৎ নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের রাজপুর ইউনিয়নের চিনাতলী স্কুল মাঠে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘এক টাকার বাজার’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দেশের দীর্ঘদিনের আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এখন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার যেমন পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে এগিয়েছে, তেমনি তিস্তা প্রকল্পও দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আগের সরকারগুলো পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছিল এবং বর্তমান সরকার সেটিকে একনেকে অনুমোদনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথে নিয়ে গেছে। একইভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনাও কার্যকর করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ত্রাণমন্ত্রী দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে যারা সমালোচনা করছে, তারা প্রকৃতপক্ষে জনগণের স্বার্থের চেয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব বক্তব্য দিচ্ছে। তার মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের আন্দোলনে এসব সমালোচকদের সরাসরি অংশগ্রহণ বা উপস্থিতি দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদী বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী, এবং এর সঠিক ব্যবস্থাপনা দেশের কৃষি, পানি নিরাপত্তা এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে একটি জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই প্রকল্প শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনমান পরিবর্তনের একটি বড় উদ্যোগ হতে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সরকারি ও উন্নয়ন সংস্থার এই যৌথ উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তা কার্যক্রম এবং নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।
ত্রাণমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পানি সরবরাহ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে এটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত, যাতে দেশের বৃহৎ অবকাঠামোগত পরিকল্পনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।