
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জয়ন্ত বিশ্বাস (১৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামের মালোপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী এবং তার বয়স আনুমানিক ৯ বছর। সোমবার দুপুরে সে জয়ন্ত বিশ্বাসের বাড়িতে টেলিভিশন দেখতে যায়। প্রাথমিকভাবে স্বাভাবিকভাবে সেখানে প্রবেশ করলেও পরে তাকে ফুঁসলিয়ে ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। বিষয়টি জানার পরপরই পরিবার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশ ও সাগরদাঁড়ি এলাকা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জয়ন্ত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে। তাকে ঘটনাস্থল এলাকা থেকে আটক করা হয়।
উপজেলার চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক শামীম হোসেন জানান, “শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জয়ন্ত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে থানায় নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।”
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সেবা কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এ ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
শিশু নির্যাতনের এই ধরনের ঘটনা সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসন—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ ধরনের অপরাধ কমানো সম্ভব নয়।
সব মিলিয়ে কেশবপুরের এই ঘটনা আবারও শিশু সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে ধরেছে।