
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ১৮৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা, আর এই জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছেন তাওহীদ হৃদয়।
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে নিউজিল্যান্ড। শুরুতেই রানআউটে ওপেনার টিম রবিনসন ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে কেতন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার জুটি গড়ে ইনিংস সামাল দেন। দুজনই ৫১ রান করে আউট হন, যা দলের স্কোরকে শক্ত ভিত্তি দেয়।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮০ রান করে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ হোসেন সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন। এছাড়া আরও কয়েকজন বোলার একটি করে উইকেট পান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম ধীরগতির ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেন। ৪১ রানের মধ্যে প্রথম উইকেট হারায় টাইগাররা। লিটন কুমার দাসও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন।
১০ ওভারের মধ্যেই ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। তখনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। দুজন মিলে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা বাংলাদেশের ইনিংসে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।
তাওহীদ হৃদয় আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে চাপ সামলান এবং দলের রান তাড়া সহজ করে তোলেন। তার ইনিংসেই মূলত বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ১৮৩ রানের লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে যায় টাইগাররা।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন ইতিহাসও গড়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি রান তাড়া করার রেকর্ড অবশ্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ২০১৮ সালে ২১৫ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল টাইগাররা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে তিনটি রান তাড়া করে এবং একটি প্রথমে ব্যাট করে।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। কোচ ফিল সিমন্সের অধীনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।
ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা খারাপ হলেও শেষের দিকের দৃঢ়তা ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংই জয় এনে দেয়। বিশেষ করে তাওহীদ হৃদয়ের ইনিংস ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
এই জয় শুধু সিরিজে এগিয়ে যাওয়াই নয়, বরং শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সক্ষমতারও বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।