
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর ভিভিআইপি (Very Very Important Person) মর্যাদার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তার এই বিশেষ মর্যাদা এক বছরের পরিবর্তে ছয় মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আগামী ১০ আগস্টের পর তিনি আর বিশেষ নিরাপত্তা সংস্থা এসএসএফের সুবিধা পাবেন না এবং সাধারণ নাগরিকের মতো চলাফেরা করতে হবে।
এই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে সাংবাদিক আনিস আলমগীর তার ফেসবুক পোস্টে এ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘আব তেরা ক্যা হোগা কালিয়া (বিশ্ব বাটপার)? ক্যা আপ সড়ক পর আকেলে চল সকতে হ্যাঁ?’—যা দ্রুতই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
শুধু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তার পোস্টে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে আরও মন্তব্য করেন যে, ক্ষমতা ছাড়ার কয়েক দিন আগে তিনি নিজেই নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে এক বছরের জন্য এসএসএফ সুবিধা নিয়েছিলেন। এখন সেটি কমিয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘ট্রায়াল ভার্সন’ ও ‘হাফ সাবস্ক্রিপশন’ বলে ব্যঙ্গ করেন।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাবেক এই প্রধান উপদেষ্টা ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগে নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। এই সিদ্ধান্ত তখনও কিছুটা আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
বর্তমানে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেই মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক বিবেচনায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় শেষে ড. ইউনূস আর এসএসএফের নিরাপত্তা পাবেন না।
এই বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ কেউ এটিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের মতামত ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
একদিকে সমালোচকরা বলছেন, ভিভিআইপি মর্যাদা ও বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা এমনভাবে দেওয়া উচিত নয়, যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অন্যদিকে, সমর্থকদের মতে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিরাপত্তা দেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মন্তব্য এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তার কটাক্ষমূলক ভাষা অনেকের কাছে সমালোচনার কারণ হলেও, আবার কেউ কেউ এটিকে ব্যক্তিগত মতপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে, ড. ইউনূসের ভিভিআইপি মর্যাদা কমানোর বিষয়টি এখন শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি রাজনৈতিক আলোচনা, সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং মতবিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
আগামী ১০ আগস্টের পর পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও ভিআইপি সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে কি না, তা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে বিভিন্ন মহলে।