
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ। সোমবার (২৫ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত কবির সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় নেতারা বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি নন, তিনি ছিলেন ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে এক আপসহীন সংগ্রামী কণ্ঠস্বর।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বক্তব্যে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, নজরুল তার সাহিত্য ও রাজনৈতিক চিন্তার মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান অন্যায়, বৈষম্য এবং শোষণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন দ্রোহের কবি, আবার একই সঙ্গে সাম্য ও মানবতার কবি। তার লেখায় যেমন ছিল স্বাধীনতার আহ্বান, তেমনি ছিল ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ।
তিনি আরও বলেন, নজরুল জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কখনও রুটির কারখানায় কাজ করেছেন, আবার লেটো গানের দলে গান গেয়েছেন। এভাবেই তিনি সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রামকে নিজের লেখায় প্রতিফলিত করেছেন। তার কবিতা, গান, প্রবন্ধ ও সাহিত্যকর্মে শোষণমুক্ত সমাজ ও নারীমুক্তির স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়।
বাসদ নেতারা মনে করেন, নজরুলের চিন্তা ও আদর্শ বর্তমান সময়েও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশের চলমান সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট, সহিংসতা, বিদ্বেষ এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মধ্যে নজরুলের দর্শন জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। তারা বলেন, নতুন প্রজন্মকে নজরুল চর্চায় আরও বেশি আগ্রহী হতে হবে, যাতে তারা মানবতা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য নেতারা বলেন, নজরুল ছিলেন এমন এক সাহিত্যিক, যিনি একই সঙ্গে কবিতা, গান, প্রবন্ধ এবং রাজনৈতিক চিন্তার মাধ্যমে মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন। তার রচনাবলীতে শোষিত, বঞ্চিত ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর প্রতিফলিত হয়েছে।
নেতারা আরও উল্লেখ করেন, নজরুল তার সাহসী লেখার কারণে বিভিন্ন সময় কারাবরণ করেছেন, তবুও তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান থেকে কখনও সরে যাননি। তার জীবন ও সাহিত্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাসদ নেতারা কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, নজরুলের আদর্শ ধারণ করা মানে মানবতা ও সাম্যের পথে অগ্রসর হওয়া। তারা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্য দূরীকরণে তার দর্শনকে অনুসরণ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে নেতারা কবির সমাধি প্রাঙ্গণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।