
দেশের সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার বিষয়ে পাওয়া গোয়েন্দা সতর্কতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আজ সোমবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বর্তমান চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে। ওই চিঠি পাওয়ার পরপরই বেবিচক উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। একই সঙ্গে সব বিমানবন্দরে কর্মরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ইউনিটগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
মূলত দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সম্ভাব্য ঝুঁকি ও নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কা বিবেচনায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যাত্রী চলাচল বেশি এমন বিমানবন্দরগুলোতে বাড়তি নজরদারি চালু করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। বিমানবন্দরের টার্মিনাল, কার্গো এলাকা, প্রবেশ ও বহির্গমন পথসহ সংবেদনশীল স্থানগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরাও মাঠে কাজ করছেন। বিমানবন্দরের ভেতরে সন্দেহভাজন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
বেবিচক জানিয়েছে, যাত্রী ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় এনে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপদ রাখতে সময়োপযোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো ধরনের হুমকি বা গুজবকে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় প্রতিটি চেকপোস্টে নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে। ব্যাগেজ স্ক্যানিং, যাত্রী যাচাই এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সময়ে বিমানবন্দর নিরাপত্তা শুধু শারীরিক নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তথ্যভিত্তিক নজরদারি এবং গোয়েন্দা সমন্বয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের সতর্কতা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতা অবস্থা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।