
রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাটকে ঘিরে সড়ক দখল ও যানজট এড়াতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দিয়াবাড়ি পশুর হাটে নির্ধারিত সীমানার বাইরে প্রধান সড়কে রাখা সব পশু সরিয়ে দেন।
সোমবার (২৫ মে) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাট পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এই পদক্ষেপ নেন। পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, উত্তরা এলাকায় মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে সড়কে ডাইভারশন দিয়ে পশু বেঁধে রাখা হয়েছে, যা যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছিল।
এ দৃশ্য দেখে প্রশাসক অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সড়ক থেকে পশু সরানোর নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনোভাবেই হাটের কার্যক্রম নির্ধারিত সীমানার বাইরে বিস্তৃত হতে দেওয়া হবে না।
এ সময় সংশ্লিষ্ট হাটের ইজারাদারকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। উপস্থিত হওয়ার পর তাকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন ভবিষ্যতে সড়কে পশু না রাখা হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ইজারাদারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালে বৃষ্টির কারণে কিছু পশুর মালিক সাময়িকভাবে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশু রেখেছিলেন। তবে তারা ডিএনসিসির নির্দেশনা মেনে চলছেন এবং দ্রুত সড়ক থেকে সব পশু সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।
এর আগে একই দিনে প্রশাসক রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটও পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে তিনি হাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। ঈদকে সামনে রেখে হাটগুলোতে যাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে লেনদেন করতে পারেন, সে বিষয়ে জোর দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে প্রশাসক রাজধানীর ৩০০ ফিট, বেরাইদ ও স্বদেশ প্রপার্টিজ এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী পশুর হাটও পরিদর্শন করেন। এসব এলাকায় যাতায়াতরত মানুষের যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি বা যানজটের সম্মুখীন হতে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে পশুর হাট ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক দখলমুক্ত রাখা, নির্ধারিত স্থানে হাট সীমাবদ্ধ রাখা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা।
পরিদর্শন কার্যক্রমে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ রকিবুল হাসান-সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সব মিলিয়ে, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জনভোগান্তি কমাতে ডিএনসিসির এই তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।