
নোয়াখালীর মাইজদী শহরে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের তালাবদ্ধ কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ করেই মাইক বসিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় এক যুবককে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঘटनাটি ঘটে সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে মাইজদী শহরের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে। বর্তমানে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে হঠাৎ স্লোগান দেওয়ার ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে আসেন ওই যুবক। তার সঙ্গে ছিল দুটি মাইক ও একটি অ্যামপ্লিফায়ার। সেগুলো সেট করে তিনি উচ্চস্বরে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে শুরু করেন। তার স্লোগানের মধ্যে ছিল— ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ইত্যাদি।
হঠাৎ এ ধরনের স্লোগান শুনে আশপাশের মানুষজন জড়ো হতে থাকেন। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন, আবার কেউ পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। এ সময় খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই ওই যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তিনি কোথায় পালিয়ে গেছেন, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি মাইক ও একটি অ্যামপ্লিফায়ার জব্দ করে।
পরে জানা যায়, ওই যুবকের নাম মো. আলো (৩৩)। তিনি নোয়াখালী পৌরসভার দত্তেরহাট এলাকার বাসিন্দা। তার এমন আচরণের পেছনে মানসিক সমস্যার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, স্লোগান দেওয়া যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার মানসিক সমস্যা রয়েছে। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ধরনের ঘটনা এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বিষয়টিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেই মনে করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলো অনেক সময় এ ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণের কারণ হতে পারে। তাই এমন ঘটনার ক্ষেত্রে আইনগত দিকের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা যায়।