
ভারতের রাজস্থানে একটি সরকারি হাসপাতালে ডেন্টাল চিকিৎসায় গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। জওহরলাল নেহরু হাসপাতাল-এর এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর সুস্থ দাঁত তুলে ফেলার অভিযোগ করেছেন এক নারী।
ভুক্তভোগী শাবানা খান জানান, গত প্রায় দুই মাস ধরে তিনি দাঁতের তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। এর আগে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার একটি ক্ষতিগ্রস্ত দাঁত শনাক্ত করে সেটি তুলে ফেলার পরামর্শ দেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তিনি স্বামীর সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে দাঁত তোলার জন্য প্রস্তুতি নেন।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসার সময় বড় ধরনের ভুল ঘটে। শাবানা দাবি করেন, চিকিৎসক ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতের পরিবর্তে তার সম্পূর্ণ সুস্থ একটি দাঁত তুলে ফেলেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা চলাকালে তিনি একাধিকবার চিকিৎসককে জানান যে ভুল দাঁতে কাজ করা হচ্ছে এবং তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন। কিন্তু তার কথাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
রোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, দাঁত তোলার সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তার সহকর্মী বা পরিচিতদের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যস্ত ছিলেন। এ কারণে মনোযোগের অভাব থেকেই এমন ভুল হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পরপরই শাবানা এবং তার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের ভেতরে প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে হাসপাতালের কিছু কর্মী তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
শাবানা আরও একটি গুরুতর অভিযোগ করেন। তার দাবি, প্রায় দুই মাস আগে একই হাসপাতালে তার আরেকটি দাঁত কোনো ধরনের অ্যানেসথেসিয়া ছাড়াই তোলা হয়েছিল, যা চিকিৎসা নীতিমালার পরিপন্থী। এ ঘটনাগুলো মিলিয়ে তিনি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারানোর কথা জানান।
এ ঘটনার পর তিনি হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. অরবিন্দ খারে-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসা খাতে দায়িত্বহীনতা ও তদারকির অভাবের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একজন রোগীর ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, মানসিক আঘাত এবং ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেন্টাল চিকিৎসার মতো সূক্ষ্ম ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও মনোযোগ প্রয়োজন। রোগীর অভিযোগ গুরুত্বসহকারে শোনা এবং প্রতিটি ধাপে সঠিক যাচাই নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসাবধানতাও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এ ঘটনায় এখনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি। তবে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ঘটনাটি স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহিতা ও মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আস্থা বজায় রাখতে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের আরও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।